ওরাই হবে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার কারিগর





 ওরাই হবে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার কারিগর শিক্ষা প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। আমাদের সংবিধানে এই অধিকারের কথা উল্লেখ রয়েছে। বর্তমান সরকার শিক্ষার প্রসারে সমাজের সর্বস্তরে কাজ করছে। এই ক্ষেত্রে সফলতাও ব্যাপক। স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু সরকার প্রাথমিক শিক্ষা জাতীয়করণ করেন। ১৯৭৪ সালে কুদরাত-এ-খুদা প্রণীত ‘বাংলাদেশ শিক্ষা কমিশন’ ১৯৮৩ সালের মধ্যে প্রথম শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষাকে সর্বজনীন, বাধ্যতামূলক ও অবৈতনিক করার সুপারিশ করে। ১৯৮১ সালে আলাদাভাবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠিত হয়। সেই ধারাবাহিকতায় জাতিসংঘ সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় ২০১৫ সালের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষায় লিঙ্গবৈষম্যের অবসান ঘটানোর জন্য সব দেশ ঐকমত্যে পৌঁছে। জাতীয় শিক্ষানীতি গৃহীত হওয়ার এক যুগেরও বেশি সময় অতিক্রান্ত হয়েছে। শিক্ষা আইন প্রণয়নের কাজও এগিয়ে চলছে। সমন্বিত ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং জীবনব্যাপী শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি করা একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ।

 

 সুশিক্ষিত, আধুনিক প্রযুক্তিজ্ঞান সম্পন্ন দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে সরকার পর্যায়ক্রমে ‘জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০’ বাস্তবায়ন করছে। নানাবিধ সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও শিক্ষার ব্যাপক প্রসার ও গুণগত মানোন্নয়নে বর্তমান সরকার ঈষর্ণীয় সাফল্য অর্জন করেছে। শিক্ষাকে মানসম্মত, সর্বব্যাপী ও ফলপ্রসূ করার লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের কাছে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। প্রতিবছর ১ জানুয়ারি পাঠ্যপুস্তক উৎসব দিবস উদ্্যাপন করা হয়। এই উৎসবের দিনে প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, ইবতেদায়ি, মাধ্যমিক, দাখিল ও এসএসসি স্তরে প্রায় ৩৫ কোটি বই বিনামূল্যে বিতরণ করছে সরকার।

 দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে ব্রেইল পদ্ধতির পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ করা হচ্ছে। এমনকি প্রাক-প্রাথমিক স্তরে ৫টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী (চাকমা, মারমা, সাদরি, ত্রিপুরা ও গারো) শিক্ষার্থীর মাঝে নিজ নিজ মাতৃভাষায় মুদ্রিত পাঠ্যপুস্তক বিনামূল্যে বিতরণ করা হচ্ছে। আমার নির্বাচনি এলাকা রাজধানীর ‘গেটওয়েখ্যাত’ দাউদকান্দি উপজেলা। উপজেলা পরিষদের দু-মেয়াদের চেয়ারম্যান হিসেবে আমার এলাকার প্রাথমিক শিক্ষার মান-উন্নয়ন এবং শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিতে উপজেলার প্রায় সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছি। এই ক্ষেত্রে নতুন ভবন নির্মাণ ও সংস্কার, স্কুল মাঠ ভরাটের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের ক্রীড়ামুখী ও সাংস্কৃতিক পরিবেশ তৈরি করা, সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহিদ মিনার নির্মাণ ও জাতীয় দিবসগুলো শ্রদ্ধা-সম্মান সহকারে পালন, স্কুলগুলো নিয়মিত পরিদর্শন।

 প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মান উন্নয়নে বিভিন্নভাবে অবদান রাখছেন আমার এলাকার শিক্ষক এবং ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা। নিয়মিত পরামর্শ এবং উন্নয়নের জন্য অর্থিক যোগানসহ দিকনির্দেশনা দিয়ে অবদান রাখছেন আমাদের মাননীয় সংসদ সদস্য প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল (অব.) সুবিদ আলী ভূইয়া। এই শিক্ষানুরাগীর সার্বিক সহযোগিতায় এগিয়ে চলছে দাউদকান্দি উপজেলার শিক্ষার কার্যক্রম। ইতোমধ্যে সুচারুভাবে যেসব কাজ এগিয়ে নিচ্ছি তা তুলে ধরার চেষ্টা করছি।

 ১. আমার ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে পিছিয়ে পড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কক্ষ নির্মাণ ও সম্প্রসারণ করা হয়েছে।

 ২. ব্যক্তিগত এবং বিভিন্ন জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিশুদের বসবার জন্য টুল-বেঞ্চ ও নানা সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়েছে। 

৩. উপজেলার সকল স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষানীতি ও দিকনিদের্শনামূলক তথ্যবহুল বই এবং বিভিন্ন প্রকাশনা সরবরাহ এবং প্রকাশের ব্যবস্থা করা হয়েছে। 

৪. প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে আকর্ষণীয় এবং দৃষ্টিনন্দন করার জন্য বৃক্ষরোপণ, ফুলবাগান করা এবং বিদ্যালয়ের বাউন্ডারি ওয়াল তৈরি করা হয়েছে। বেশির ভাগ স্কুলে ‘মিড ডে’ মিল চালু রাখা হয়েছে। শিশুদেরকে বিভিন্ন সময়ে খেলাধুলার সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। খেলাধুলার জন্য মাঠ সংস্কার, বিকল্প মাঠ ব্যবস্থা করে আন্তঃস্কুল ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।

 ৫. উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন সম্প্রসারণে বিভিন্ন সময়ে রেডিও-টেলিভিশনে এবং ফেসবুকের মাধ্যমে সবার সাথে মতবিনিময়সহ বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেওয়া হয় এবং সঠিক পরামর্শগুলো নিয়ে বিদ্যালয়ের কমিটি ও অভিভাবকদের সাথে আলোচনা করে উন্নয়নের জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

 ৬. নিয়মিতভাবে কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয় পরিদর্শন করা একটি রুটিন কাজ। এতে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি এবং শিক্ষকগণকে নিয়মিতভাবে সমস্যা সমাধানসহ বিদ্যালয়ের মানোন্নয়ন শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য উদ্বুদ্ধ করা হয়। ৭.প্রতিটি বিদ্যালয়ে কাব গঠনে সহযোগিতা করা হয়েছে। 

 ৮. আন্তঃবিদ্যালয়ের কাব সমাবেশ আয়োজন করা হয়েছে, প্রাথমিক শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব সম্পর্কে অভিভাবকদের সচেতন করার উদ্দেশ্যে সভা-সেমিনার-সমাবেশ আয়োজন করা হয়েছে, হচ্ছে। ৯. বিদ্যালয়ের শিশুদের জন্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের এই ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা, ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক সহযোগিতায় গরিব শিশুদের খাতা, পেনসিল ইত্যাদি প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। 

 ১০. ব্যক্তিগতভাবে আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে শিক্ষানুরাগীদের আর্থিক সহায়তায় গরিব শিশুদের স্কুল পোশাক এবং জুতা সরবরাহ এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়েছে। 

 ১১. প্রতিটি বিদ্যালয়ে বৃত্তিপ্রাপ্ত এবং ভালো ফলাফলের অধিকারী শিশুদেরকে বিভিন্ন সময়ে পুরস্কৃত করা হয়। বিভিন্ন পর্যায়ে শিক্ষার্থীদেরকে নিয়ে শিক্ষা সফর, জাতির পিতার স্মৃতিবিজড়িত ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের স্মৃতি জাদুঘর, জাতীয় স্মৃতিসৌধ, শহিদ মিনার, জাতীয় সংসদ ভবনসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষণীয় স্থাপনা দেখা এবং এর সম্পর্কে জানার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 আমার দায়িত্বের আওতায় আমি চষ্টা করেছি, শিক্ষার্থীদের মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানার লক্ষ্যে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ, জাতির পিতার জন্মদিন ১৭ মার্চ জাতীয় শিশু দিবস পালন, ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন